বিএনপির ‘আন্দোলন’ কোন পথে – Diganta

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নামছে বিএনপি। তবে আন্দোলনের ধরন কেমন হবে, সে বিষয়ে দলের নেতারা স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না।

তবে এখনই রাজপথে শক্তি প্রদর্শনের মতো কোনো কর্মসূচিতে যাচ্ছে না দলটি। আরও মাস দুয়েক নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধারাবাহিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে দলটি। এরপর আগস্টের শেষ দিকে সর্বাত্মক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা বিএনপির।

এর আগে আবারও তৃণমূল সফরে যাবে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। সেই সফরে আগামী দিনের সর্বাত্মক আন্দোলনের প্রস্তুতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বার্তা পৌঁছানো হবে নেতাকর্মীদের কাছে।

একইসঙ্গে এ সময়ে ২০ দলীয় জোটের বাইরে সরকারবিরোধী দলগুলো নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন করার ক্ষেত্রও প্রস্তুত করা হবে। বিএনপির নীতিনির্ধারক কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলোচনা করে এ আভাস পাওয়া গেছে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বুধবার আজকালের খবরকে বলেন, ‘নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন থেকেই আন্দোলন করে যাচ্ছি।

এমনকি মিথ্যা মামলায় দলের চেয়ারপারসনকে কারাগারে নেওয়া হলেও আমরা তার মুক্তিতে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়েছি। কিন্তু বিচার বিভাগের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে এবং নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলনে বিকল্প দেখছি না।’

তবে এ কঠোর আন্দোলনের সময়সূচি সম্পর্কে এখনও বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। তবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘শুধু নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে কোনো স্বৈরাচারী সরকারকে পৃথিবীর কোথাও অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। সুতরাং আমাদের দেশেও সেটা সম্ভবপর হবে না। সেই উপলব্ধি থেকে উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত কর্মসূচি দেওয়া হবে এবং সে কর্মসূচি সফল হবে এবং বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন হবে।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘ঈদের পর থেকেই কড়া কর্মসূচির বিষয়ে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাদের তাগিদ থাকলেও এ মুহূর্তে কঠোর আন্দোলনে না গিয়ে ধাপে ধাপে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার পক্ষে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। কেননা এরইমধ্যে বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে। পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যাও দেখা দিয়েছে।

আগামী মাসেই তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। দুই মাস পর কোরবানির ঈদ। এসব বিষয় মাথায় রেখেই এখন হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচিতে না গিয়ে বিক্ষোভ ও সভা-সমাবেশ নিয়েই মাঠে থাকবে দলটি। এছাড়াও জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার এত আগে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করলে খুব একটা ভালো ফল হবে না বলেও তাদের বিশ্লেষণ।

কেবল নেতাকর্মীদের নতুন করে ‘মিথ্যা’ মামলা, নির্যাতন আর হয়রানির শিকার হতে হবে। বাড়বে গ্রেফতারের সংখ্যা। সেজন্য পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণে খুবই কৌশলী বিএনপি। এছাড়াও দলের ভারপাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকেও সর্বাত্মক আন্দোলনের জন্য আরও কিছুটা সময় নিতে বলা হয়েছে।

তবে বাধা-বিপত্তি সত্তে¡ও এখন থেকে রাজপথে ধারাবাহিক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে দলের নেতাকর্মীদের। যার অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে দলটি। এভাবেই প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের ব্যানারে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এসব কর্মসূচিতে নেতাদের সক্রিয় উপস্থিতির জন্যও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সূত্রটি আরও জানায়, গত রবিবার স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি লন্ডনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে এসে এ বার্তা দিয়েছেন।

প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে বিএনপির আগামী দিনের নতুন কর্মসূচি এবং গাজীপুর, সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়াও বৈঠকে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ইস্যুতে সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে আরও সক্রিয় করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি হিসেবেই সম্প্রতি বিএনপিসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নতুন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন থানা এবং ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সময়ের যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং মহিলা দলের বেশ কয়েকটি সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি সাংগঠনিক কমিটিগুলোও দ্রæততম সময়ের মধ্যে করার চেষ্টা চলছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আজম খান বুধবার আজকালের খবরকে বলেন, ‘বর্তমান রাজনীতির সংকট নিরসনে বিএনপি অনেকদিন ধরেই সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতার কথা বলে আসছে; কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মিলছে না।

এ অবস্থায় বিএনপি দাবি আদায়ে সমঝোতার পথ খোলা রেখে বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে যাচ্ছে। আমরা গণতান্ত্রিক দল হিসেবে মনে করি, সরকার এখনও সমঝোতার মাধ্যমে আমাদের দাবি মেনে নিবে। অন্যতায় আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিও আদায় করা হবে।’

নাম প্রকাশে অপারগতা জানিয়ে দলটির একজন যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এই অবস্থায় সর্বাত্মক আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। সেই আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়া ও দেশের গণতন্ত্রকে মুক্ত করা সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন কিছুদিন ওয়ার্মআপ করা হবে। এর মাধ্যমে বৃহত্তর কর্মসূচির জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা, সংগঠিত করাটাই আসল উদ্দেশ্য।’

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘বিচার বিভাগের ওপর ‘সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপের কারণে মনে হচ্ছে আন্দোলন ছাড়া দলের চেয়ারপারসনকে মুক্ত করা যাবে না। এজন্য আগামীতে জনগণকে সম্পৃক্ত করে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের ধরন ও শুরুর সময়সীমা বলা যাবে না। তবে দাবি আদায়ে যে ধরনের কঠোর কর্মসূচি দিতে হয় বিএনপি তাই করবে। আর এখন থেকে যত বাধাই আসুক বিএনপি রাজপথে থাকবে।’

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার দাবিতে আজ বিএনপির বিক্ষোভ

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও ইউনাইটেড হাসপাতালে সুচিকিৎসার দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে দলটি।

রাজধানীসহ দেশের সব মহানগর ও জেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে। তবে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের কারণে গাজীপুর সিটি এলাকা এ কর্মসূচির বাইরে থাকবে।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, এ মুহূর্তে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। ইউনাইটেড হাসপাতালে তার যথাযথ চিকিৎসা দিতে হবে।

ইত্তেফাক/কেকে

বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ্: আহমেদ আজম খান

ঢাকা: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান।

বুধবার বিকেল ৫টায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করতে যান তিনি। কারাগার থেকে বেরিয়ে আহমেদ আজম খান জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ্, তিনি গণতন্ত্র উদ্ধারে নেতা-কর্মীদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করতে বলেছেন।

আহমেদ আযম বলেন, ম্যাডাম বলেছেন তার চিকিৎসার করানো জরুরী কিন্তু তা না করে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল ও সিএমএইচ এই দুই প্রতিষ্ঠানকে সরকার অযথাই বিতর্কিত করছে। সরকার এটা নিয়ে রাজনীতি করছে। একবার বলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে একবার বলে সিএমএইচে। এই দুটি প্রতিষ্ঠানকে সরকার অযথায় বির্তকিত করছেন। এই দুটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে আমার তো কোনো বির্তক নেই। কোনো অভিযোগ নেই।

আহমেদ আযম বলেন, ওনি বলেছেন আমি ইউনাইটেড হাসপাতালে আগে চিকিৎসা করিয়েছি। ওখানকার ডাক্তাররা আমার রোগ সর্ম্পকে জানেন। ওখানে আমি স্বস্তিবোধ করবো। অযথা এই দুটো প্রতিষ্ঠানকে সরকার বিব্রত করছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ম্যাডামের শরীর ভালো না এটাতো সবাই জানেন। ৭৪ ঊর্ধ্ব মানুষ ওনার বিভিন্ন ধরণে রোগ রয়েছে যা আমি বলতে পারবো না। কারণ আমি ডাক্তার নই। ওনার শরীর ভীষণ খারাপ। ওনার এই মুর্হূতে চিকিৎসার দরকার।

রাজনীতি প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেছেন, গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধারে যে আন্দোলন চলছে তা বেগবান করার নির্দেশ দিয়েছেন। এবং এই অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ওনি বাইরে থাকুন আর ভেতরে থাকুন ওনি নেতৃত্ব দেবেন।

গণমাধ্যমেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। গণমাধ্যম যেভাবে ওনার নির্জন কারাবাস ও অসুস্থতার খবর তুলে ধরেছেন এজন্য। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন শান্ত থাকার জন্য। নিবার্চনকালিন সময়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন ছাড়া জনগণ নিবার্চন মানবে না বলে জানান আহমদ আযম।

নিবার্চন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেছেন ওনাকে জেলে রেখে যে নির্বাচন সরকার করতে চান সেটা কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না। ৫জানুয়ারি যে ধরণের নির্বাচন হয়েছে ওই নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোট দেয়নি। ওনাকে জেলে রেখে একটা অর্থহীন নির্বাচন দেশের মানুষ দেখতে চান না।

আহমেদ আযম বলেন, পারিবারিক আইনজীবী হিসেবে গত ত্রিশ বছর ওনার বিভিন্ন আইনি বিষয়গুলো আমাকে দেখাশুনা। গত চার মাস ধরে চেষ্টা করছি ওনার সঙ্গে সাক্ষাতের। আজ অনুমতি পেলাম। পারিবারিক আইনজীবী হিসেবে ওনার সঙ্গে আমার প্রতি সপ্তাহে কাজ থাকে।

এর আগে গত শনিবার কারাগারে বন্দী খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার স্বজনরা দেখা করেছেন। স্বজনদের বরাত দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, ‘তার শরীরের অবস্থা আগের চেয়ে অনেক নাজুক। তিনি একা হাঁটতে পারছেন না। আমরা আজকের মধ্যে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা আগের থেকে অবনতি ঘটেছে জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ওনার দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা। এটাকে নরমাল এক্স-রে মেশিনে, নরমাল সিটিস্ক্যানে ও নরমাল এমআরআইতে হবে না। এ জন্য স্পেশাল এমআরআই, স্পেশাল সিটিস্ক্যান ও স্পেশাল হসপিটালাইজেশন প্রয়োজন হবে। এই জিনিসগুলো দিতে সরকার কোনোভাবেই রাজি হচ্ছে না।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত। রায় ঘোষণার পর পরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। বর্তমানে সেখানেই রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

জোটের বৈঠকে তারেক রহমানের বার্তা জানালেন মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০ দলীয় জোট নেতাদের কাছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।

গতকাল বুধবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক হয়। সেখানে রাজনৈতিক নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

২০ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে কোনো সংবাদ সম্মেলন না হলেও দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব দেখা করে এসেছেন তারেক রহমানের সঙ্গে।

নির্বাচন ও আন্দোলন বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিতেই জোটের এ বৈঠক আহ্বান করা হয়। সেখানে মির্জা ফখরুল বলেছেন, দেশ ও দেশের মানুষ নিয়ে তারেক রহমান আরো সক্রিয়ভাবে ভাবছেন। দেশের মানুষ ভালো নেই। তারা পরিবর্তন চায়।

এই অবস্থায় কিভাবে এই সরকারের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে তিনি ভাবছেন। আগামীতে সরকারবিরোধী যে আন্দোলন হবে জোটের শরিকদের সেখানে সক্রিয় অংশগ্রহণ চেয়েছেন তারেক রহমান।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম এম গোলাম মোস্তফা ভূইয়া বলেন, গাজীপুরসহ চার সিটির নির্বাচনে একত্রে কাজ করবে ২০ দল। আসন্ন বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটের পক্ষ থেকে একক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ জুন পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন ধীরে ধীরে বেগবান করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত আরেক নেতা জানান, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসায় ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠানোর জোর দাবি জানান জোট নেতৃবৃন্দ। জাতীয় পার্টি (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য খালেকুজ্জামান চৌধুরীর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে পবিত্র রমজানে ও ঈদের ছুটিতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের নিন্দা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়। বিচারবহির্ভূত হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ২০ দলীয় জোটের এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আব্দুল হালিম, জাতীয় পার্টি (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ,

এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের, জাগপা সভাপতি রেহেনা প্রধান, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান,

বিএমএল সভাপতি এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান, লেবার পার্টি (একাংশ) চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, (অপরাংশ) মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদি, ডিএল সাইফুদ্দিন মনি, পিপলস লীগ মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন,

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরী, ইসলামিক ঐক্যজোট চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এম এ রাকিব প্রমুখ।

জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিল সংসদে উত্থাপন

দক্ষ জনশক্তি গড়তে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় বিধানের প্রস্তাব করে সংসদে জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি বিল-২০১৮ উত্থাপন করা হয়েছে।

বুধবার পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিলটি উত্থাপন করেন।

বিলে বিদ্যমান অধ্যাদেশের অধীন প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির এমনভাবে অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেন তা বিলের বিধানের অধীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বিলে একাডেমির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থাপন এবং প্রয়োজনে দেশের যে কোন স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপনের বিধানের প্রস্তাব করা হয়।

বিলে একাডেমি পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যান করে ১৫ সদস্যের পরিচালনা বোর্ড গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলে পরিচালনা বোর্ডের সভা, একাডেমির কার্যাবলী, মহাপরিচালক নিয়োগ, কর্মচারী নিয়োগ, কমিটি গঠন, একাডেমির তহবিল, বাজেট, হিসাব ও নিরীক্ষা, প্রতিবেদন পেশ, বিধি-প্রবিধি প্রণয়নের ক্ষমতাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলে সরকারি শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউশন অধ্যাদেশের অধীন পরিচালিত বিদ্যমান জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি রহিত করার প্রস্তাব করা হয়।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদে রিপোর্ট দেয়ার জন্য বিলটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। সূত্র: বাসস

গাজীপুরেও পুলিশের ভয়ে বিএনপি! – Diganta

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে বিএনপির মনে সংশয় ছিল। দলটি অভিযোগ করে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। লঙ্ঘন করা হচ্ছে আচরণবিধি। পাশাপাশি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে বারবার সেনাবাহিনী নিয়োগের আবেদন জানায়।

বেশকিছু সংগঠনও এমন অভিযোগ করে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। গাজীপুর সিটি নির্বাচন নিয়ে একই ধরনের শঙ্কা প্রকাশ করছে বিএনপি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অবশ্য সব অস্বীকার করা হচ্ছে। দলটি বলছে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে বিএনপি।

গাজীপুর সিটি নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। অবশ্য ঈদের আমেজ কাটেনি। এরই মধ্যে অলিগলিতে উচ্চস্বরে বেজে চলেছে মাইক। খানিক ঝিমিয়ে পড়া ভোটাররা আবার পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানে সরগরম। দুপুরের তীব্র রোদ উপেক্ষা করে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন কাউন্সিলর আর মেয়র প্রার্থীরা। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই পছন্দের প্রার্থীর মার্কা নিয়ে মিছিলের ধুম-ধামাক্কা চলছে গাজীপুর মহানগরে।

মৌসুমি উচ্ছ্বাসে যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন জেলা থেকে ছুটি কাটিয়ে আসা মানুষগুলো। ঈদ আনন্দের রেশ না কাটতেই ভোটের মাঠ সরগরম হলেও বিএনপির শঙ্কা ঠিক আগের মতোই, পুলিশি হয়রানি আর গ্রেপ্তারে। তবে খুলনার নির্বাচনের ফল দেখে নির্ভার আওয়ামী লীগ। জয় পেতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন দলটির প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম।

বিএনপির প্রার্র্থী হাসান উদ্দিন সরকারের নির্বাচন পরিচালনা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আগের দিন কাশিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং জেলা বিএনপির সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক শওকত

হোসেন সরকারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন
নির্বাচন স্থগিতের পর টঙ্গীতে লেগুনায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে বিএনপি জোটের ১০৩ নেতাকর্মীর নামে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা ১২ জন এখনো কারাবন্দি।

এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে স্থানীয় চক্রবর্তী পুলিশ ফাঁড়ি। হুমকি-ধমকির অভিযোগের তীর আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীর দিকেও।

বিএনপির গাজীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী মীর হালিমুজ্জামান ননী আমাদের সময়কে বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) সব জায়গায় ভীতি প্রদর্শন ও গুজব ছড়াচ্ছে। বিএনপির নেতাকর্র্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এমন আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। দেখছি পুলিশও বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে।

নৌকার লোকজন প্রচারণা করছে তারা খুলনার মতো গাজীপুরেও ভোট করবে। তবে আমরা এসব ভয় পাই না। কেন্দ্রে কেন্দ্র সব গুজব আর বাস্তবতাকে প্রতিহত করব। তিনি বলেন, বিএনপি ব্যানার-বিলবোর্ড সাঁটালে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন হয়। আওয়ামী লীগ সাঁটালে হয় না। এটা আবার কেমন বিধি?

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সমন্বয়কারী ডা. মাজহারুল আলম বলেন, বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগকে ১ লাখ ভোটে হারিয়েছে। এখন মানুষ আওয়ামী লীগের ওপর আরও ক্ষুব্ধ। তাই এবার দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে জিতব। এটা বুঝতে পেরে তারা নির্বাচন বন্ধের কৌশল গ্রহণ করে। এখন আবার হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। নেতাকর্মীদের অনেকে ভয়ে বেরোতে পারছে না। তবে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে।

জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ বা শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করবে পুলিশ। জেলা পুলিশের এসপির বিরুদ্ধেই বিএনপিকে হয়রানি-গ্রেপ্তারের বড় অভিযোগ। নির্বাচনের আগে তাকে সরানোর অনুরোধ করা হলেও সরকার কর্ণপাত করছে না।

বরং খুলনায় নির্বাচনের আগে যেভাবে দলীয় নেতাকর্মীকে বিনা অপরাধে গণহারে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন শুরু করে গাজীপুরেও তেমনটা ভীতি রয়েছে বিএনপিতে। পুলিশের দলীয় আচরণে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে তারা শঙ্কিত।

তবে সব শঙ্কার কথা উড়িয়ে দিয়ে গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বলেন, নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সচেষ্ট আছে।

একইভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচন যদি সুষ্ঠু না হয় তা হলে যে ব্যক্তি দায়ী হবে তার বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নিতে যে পর্যায়ে যাওয়া দরকার হয় যাওয়া হবে। তিনি বলেন, গাজীপুরে নির্বাচন নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেই। প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা করবে নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য।

গাজীপুর ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, জয়দেবপুর চৌরাস্তা, ভোগড়া, টঙ্গী এলাকায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির মেয়র পদসহ ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদের পক্ষে মাইকে জোরালো প্রচার চলছে।

নতুন করে অলিগলিতে ঝোলানো হচ্ছে পোস্টার-ব্যানার। দুপুরে জয়দেবপুরের হারিনাল এলাকায় ২৮, ২৯ ও ৩০ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী দীপা চৌধুরীর পোস্টারে আঠা লাগাচ্ছিল একদল যুবক। আর একদল নারীকে সঙ্গে নিয়ে পাশের জোড়পুকুর এলাকায় ভোট চাচ্ছিলেন ওই প্রার্থী।

দীপা চৌধুরী বলেন, ভোট স্থগিত হওয়াতে ভোটার তো দূরের কথা প্রার্থীরাও ঝিমিয়ে পড়েছিল। এখন সবাই চাঙ্গা। সুষ্ঠু ভোটে যে জিতবে তাকেই জনগণ মেনে নেবে।

গতকাল বুধবার ৩০ নম্বর ওয়ার্ড নীলেরপাড়, বাঙালগাছ, কানাইয়া এলাকায় জনসংযোগ করেন বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। কয়েকটি ওয়ার্ডে গণসংযোগ শুরু করেন জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

জনসংযোগকালে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের খুনির ভাইকে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে। বিএনপি খুনির পরিবারকে প্রশ্রয় দিয়েছে। এতেই প্রমাণ হয় বিএনপি সংঘর্ষ এবং খুনের রাজনীতি করে।

এ জন্য ভোটাররা নৌকার সঙ্গে রয়েছে। এটা জেনে বিএনপি এখন সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এদিকে বিএনপি নেতা শওকত হোসেন সরকারকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সূত্র : আমাদের সময়

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যা বলছে বিএনপি

নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তির অধীনে নির্বাচনকালীন সরকার চায় বিএনপি।দলটির নেতারা বলেছেন, কোনও দলের ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হলে, সেটা কারও কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।এ সরকার গঠিত হতে হবে দল নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে।

যেসব যোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হতো,এখন সেরকম যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে।কোনও দলীয় লোক দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হলে,সেটা নিরপেক্ষ থাকবে না। তা দলীয় সরকারই হয়ে যাবে।

বিএনপির নেতারা বলেছেন,কোনও দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না।তার প্রমাণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো।স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালাবদল হয় না।নির্বাচনগুলো দলীয় সরকারে অধীনে হওয়ায় সুষ্ঠুও হয় না। সেখানে কিভাবে জাতীয় নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু হবে। তাই নির্বাচনকালীন সরকার হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তি দিয়ে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন,‘নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হতে হবে দল নিরপেক্ষ লোক দিয়ে।রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত নেই দেশের এমন বিশিষ্টজনদেন নিয়ে ওই সরকার গঠন করতে হবে।সেটা আইনজীবী বা বিচারপতি হতে পারে। উচিত হবে বিগত তিনবারের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামোতে যেভাবে ছিল,সেই রকম ব্যক্তিদের দিয়ে গঠন করা।আমরা সেই দাবি করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দলীয় লোক দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হলে সেটাকে বলতে হবে— নির্বাচনকালীন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের সরকার। আমরা তো কোনও দলীয় সরকারের কথা বলি নাই।যদি দলীয় লোকের নির্বাচনকালীন সরকারের নির্বাচনে যেতে হয়,তবে তো বিএনপি ২০১৪ সালের নির্বাচনেই অংশ নিতো।

সেখানে তো সর্বদলীয় সরকার হওয়ার কথা ছিল।তখনকার নির্বাচনকালীন সরকারে খালেদা জিয়াকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় দিতে চেয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘নির্বাচকালীন সরকার নিয়ে এর আগেও আওয়ামী লীগের নেতারা বক্তব্য দিয়েছেন।এটা তাদের নিজস্ব বক্তব্য।তবে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে সব দলের মতামত নিয়ে এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এমন ব্যক্তিদের নিয়ে।’

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে,নির্বাচনকালীন সরকারের একটি রূপরেখা দেওয়ার কথা ছিল খালেদা জিয়ার। সেই রূপরেখার খসড়া প্রস্তুত করা আছে। নির্বাচনের আগে যদি খালেদা জিয়া মুক্তি পান, তাহলে তিনি নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করবেনস।

আর তিনি মুক্তি না পেলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের বাইরে অন্য দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠলে, তখন সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা দেওয়া হবে।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, ‘আমরা এখন কোনও নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে ভাবছি না। আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া আগে মুক্তি পাবেন, তারপর তিনিই ঠিক করবেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে যাবে কিনা।

নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের বিষয়ে খালেদা জিয়া আগেও বলেছেন যে, বিএনপি কোন সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে এবং সেই সরকারের রূপরেখা কেমন হবে, কারা সেই সরকারে থাকেব।’

প্রসঙ্গত, বুধবার (২০ জুন) সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘এ বছরের অক্টোবরেই নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হতে পারে।নির্বাচনকালীন সরকারের আকার ছোট হবে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারে।’ সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

রোনালদোর গোলে গ্যালারিতে উড়লো বাংলাদেশের পতাকা

বুধবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মরক্কোর মুখোমুখি হয়েছিল পর্তুগাল। যদিও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগিজরাই ছিল ফেরারিট, তবুও মরক্কোর বিরুদ্ধে জয় পেতে বেশ ঘাম ঝড়াতো হয়েছে তাদের।

ম্যাচের ৪ মিনিটে রোনালদোর গোলে এগিয়ে যাওয়া পর্তুগাল শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে। গোল করার পর দু-ডানা মেলে যখন উড়ছেন রোনালদো তখন ঠিক তার পেছনে ভেসে উঠলো লাল-সবুজের পতাকা।

এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের চলতি আসরের দ্বিতীয় দ্রুততম গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটা এককভাবে নিজের করে নেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সি আর সেভেনের দেয়া একমাত্র গোলের ব্যবধানই পুরো ম্যাচে আর ঘোচাতে পারেনি মরক্কো। তবে ম্যাচ হারলেও খেলায় আফ্রিকান দলটির আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। ম্যাচে পর্তুগাল শট নিয়েছে ১০টি, মরক্কো ১৫টি। মরক্কোর অন টার্গেট শট ৪টি।

আর এই হারের মাধ্যমে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিদায় ঘণ্টা বেজে গেল আফ্রিকান দেশ মরক্কোর। প্রাণপণ চেষ্টা করেও বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের বিদায় ঠেকাতে পারল না মরক্কো। শেষ ম্যাচ জিতলেও মরক্কোর আর আশা নেই।

অন্যদিকে প্রথম ম্যাচ ড্র করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে জয় নিয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল। এই জয়ে বি গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেল পর্তুগাল। শেষ ম্যাচে জিতলেই পরবর্তী রাউন্ডের টিকেট নিশ্চিত হয়ে যাবে।

নীতিমালা না মেনেই ব্যবসা করছে পাঠাও!

ম্যাপ সম্পর্কে কোন ধারণা নেই। ঢাকার রাস্তাঘাট অচেনা-এমন লোকদের হাতে পাঠাও অ্যাপস আর মোটরসাইকেল! রিকোয়েস্ট পেলেই যাত্রী টানতে দৌঁড়ে যাচ্ছে, আবারও যাত্রী নামিয়ে ব্যস্ত হয়ে ছুটতে গিয়ে মাঝপথেই ঘটাচ্ছে দুর্ঘটনা।

লাভজনক হওয়ায় ঢাকার বাইরে থেকে শত শত মোটরসাইকেল রাজধানীতে ঢুকে ব্যবসায় নেমেছে। ঢাকার বাইরে থেকে আসা এসব মোটরসাইকেলের নাম্বার প্লেটে দেশে বিভিন্ন অঞ্চলের নাম লেখা দেখা যায়।

এমন পরিস্থিতিতে ‘রাইড শেয়ারিং-কে হিতে বিপরীত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং শুরু থেকে পর্যবেক্ষণ করছেন মেগাসিটি গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মুরাদ শুভ।

তিনি জানান, কোন দেশে রাইড শেয়ারিংয়ের শুরুতে রাইডার এবং বাইকার বা চালক এই দুই শ্রেণীর প্রয়োজন হয়। এটা যখন বহুমাত্রায় হয়ে যায় তখন রাইড শেয়ারিং দাঁড়িয়ে যায়। সে হিসেবে বাংলাদেশে এটা দাঁড়িয়ে গেছে-বলাই যায়। কিন্তু এখন নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কিন্তু যে নীতিমালা করা হয়েছে তাতে এর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। খবর বার্তা ২৪’র।

পরিবহন-বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক বলেন, ‘সরকার এখনও গণপরিবহনের ভালো কোন বিকল্প দিতে পারেনি। তবে দেশে রাইড শেয়ারিংয়ের ভালো সম্ভাবনা আছে। গাড়ি না কিনে চারজন যাত্রী একসাথে যাওয়ার ভালো সুযোগ আছে। কিন্তু বাংলাদেশে এরকম রাইড শেয়ারিং হচ্ছে না।

ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং বেড়ে যাচ্ছে। রাইড শেয়ারের পূর্ব শর্ত হল মানুষের মধ্যে এর প্রচলন শুরু হওয়া। ব্যবহারকারীর সংখ্যা যখন বাড়বে তখন এটা হবে। ব্যবহারকারীরা একত্রিত হয়ে তাদের গন্তব্য মিলে যাওয়ার পর কোথাও যাবে।’

বিশ্লেষকদের ধারণা মতে, মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিংয়ের ৯০ ভাগ পাঠাও-অ্যাপসের। কিন্তু এসব পাঠাও অ্যাপস ব্যবহাকারীদের অধিকাংশ ঢাকার নিয়মিত মোটরসাইকেল চালক নন। তারা রাজধানীর বাইরে থেকে এসে পেশাদার হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

মুরাদ শুভ বলেন, ‘রাইড শেয়ারিং মানে হলো যখন আপনি কোথাও যাবেন একই যাত্রাপথের অন্য আরেকজন যাত্রীকে সাথে নিয়ে যাবেন। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে আমরা তা-ই দেখছি। কিন্তু ঢাকার মোটরসাইকেল অ্যাপসগুলো বেশি ভাড়া ধার্য করায় ‘বাইকার’পেশা হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। যা এখন ঝুঁকির কারণ।

দেখা গেছে, অদক্ষ ও ঢাকার পথঘাট না চেনা গ্রাম থেকে আসা চালকশ্রেণীও যুক্ত হয়েছে তাতে। এরা প্রাইভেটকার-জিপ মাইক্রোবাসের গায়ে ঘষা লাগিয়ে আচড় ফেলছে। নিয়মিত ‘লুকিং গ্লাস’ভাঙ্গছে প্রাইভেট কারের।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান বলেন, ‘পাঠাও-এর ওপর মনিটরিং তারা বৃদ্ধি করেছে। এখন মোবাইল কোট বসিয়ে মোটরসাইকেল আটকানো হচ্ছে। ঢাকার বাইরের মোটরসাইকেল ভেতরে এসে ট্রিপ দেওয়ার বিষয়টি তারা কঠোরভাবে দেখবেন।’

মোটরসাইকেল কোম্পানিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে দেশে যত মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে তা অতীতে কোন সময় হয়নি। ১৫টি ব্র্যান্ডের ৩ লাখ ৮৭ হাজার মোটরসাইকেল বিক্রি করেছে, যা আগেরবছরের চেয়ে ৪৪ শতাংশ বেশি।

এই খাতের কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, এত বেশি মোটরসাইকেল বিক্রির কারণ রাইড শেয়ারিং অ্যাপস। নগদ আয়ের পথ দেখে ঢাকার রাস্তায় কয়েক হাজার ‘ফুলটাইম বাইকার ড্রাইভার’ নেমে গেছে। এদের অধিকাংশের মোটরসাইকেল চালনায় দক্ষতা নেই।

এক্ষেত্রে রাইড শেয়ারিং নীতিমালা ভঙ্গ করছে পাঠাও। নতুন মোটরসাইকেল দিয়ে রাইড দেওয়া নীতিমালায় নিষিদ্ধ। কমপক্ষে এক বছরের পুরনো হতে হবে। কিন্তু পাঠাও নতুন মোটরসাইকেল কিনে রাইড দিতে বিভিন্ন অফার চালু রেখেছে।

আশরাফ নামে একজন ব্যাংকার অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন আগে বিজয়স্মরণি সিগন্যালের ২০০গজ আগে একটি মোটরসাইকেল বা পাশের চিপা জায়গা দিয়ে ঢুকে পড়ে। বাইকটির হ্যান্ডেল প্রথমে তার নতুন প্রাইভেট কারের পেছনে ঘঁষা দিয়ে স্ক্রেচ ফেলে দেয়।

রহমতুন্নেসা নামে আরেকজনের অভিযোগ একই ধরণের। তার প্রাইভেট কারের লুকিং গ্লাস ভেঙ্গে দিয়েছে পাঠাও অ্যাপসের একটি বাইকার। উল্টো ওই বাইকার প্রাইভেট কারের দোষ দিয়ে দ্রুত সিগন্যাল পার হয়ে যায়।

কিন্তু তিনি মোটরসাইকেলের মোবাইল রাখার হ্যান্ডল এবং স্ক্রিনে ‘পাঠাও’লগো দেখতে পেয়ে বুঝেতে পেরেছেন বাইকার লোকটি রাইড শেয়ারিংয়ের যাত্রী টানছে। আর নাম্বার প্লেট যশোর মেট্রো সার্কেলের।

পাঠাও-অ্যাপস ব্যবহার করে মোটরসাইকেলে একজন যাত্রী উত্তরা থেকে বনানী যান। যাওয়ার পথে দুই জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটনার ঘটে বলে জানান তিনি।একটি প্রাইভেট কারের সামনে বাম্পারে যাত্রীর পা লেগে অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছেন তিনি।

এজাজ নামের ওই যাত্রীর অভিযোগ, ‘‘বাইকারের সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে। কিন্তু তার হাত কাপানো চালানো দেখে বোঝাই যাচ্ছে নতুন চালানো শিখেছে মাত্র। অথচ উল্টো দাবি করছে ২০১২ সাল থেকে বাইক চালায়।’’

উৎস: আমাদের সময় ডট কম

দেশে ফিরেছেন আলোচিত এমপি বদি, আজ উখিয়ায় সংবর্ধনা!

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি ওমরাহ পালন শেষে অবশেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন। চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে

প্রাণহানির ঘটনায় আলোচনার শীর্ষে থাকা এই এমপি অভিযানের মধ্যেই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করায় তাকে নিয়ে নানা আলোচনার ডালপালা মেলেছিল। আজ বৃহস্পতিবার নিজ নির্বাচনী এলাকায়

আসার কথা রয়েছে তার। সংসদ সদস্য বদির ব্যক্তিগত বিশেষ সহকারী হেলালউদ্দিন গতকাল গণমাধ্যমকে জানান, এমপি বদি সৌদি এয়ারলাইনসের একটি বিমানে করে গত ১৭ জুন সন্ধ্যায় ঢাকার হযরত

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এর পর তিনি সংসদ ভবনের নিজস্ব ফ্ল্যাটে অবস্থান নেন। সোমবার ও গতকাল বুধবার তিনি সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন। আজ বৃহস্পতিবার কক্সবাজার

ফেরার কথা রয়েছে তার। বৃহস্পতিবার নির্বাচনী এলাকার উখিয়া উপজেলায় এলাকাবাসীর ব্যানারে এমপি বদিকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তার বিশেষ সহকারী। আরো পড়ুন>> সিলেটে উন্নতি উত্তরাঞ্চলে সতর্কতা জারি

কয়েকদিন ধরে যে হারে পানি বাড়ছে তা অব্যাহত থাকলে আগামী সপ্তাহ নাগাদ কুড়িগ্রামসহ আশপাশের জেলায় বন্যা হতে পারে। সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) এ আগাম

সতর্কতা জারি করেছে। এদিকে, পানি নামতে শুরু করেছে বন্যাগ্রস্ত সিলেটের বিভিন্ন এলাকা থেকে। ভয়াবহ বন্যার শিকার মৌলভীবাজার এলাকা থেকে পানি নেমে যাওয়ার হার বেশি। সিলেট জেলার বন্যা

পরিস্থিতি অনেকটাই স্থিতিশীল আছে। তবে কিছু এলাকায় ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। বিপরীত দিকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। এফএফডব্লিউসির নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান

জানান, ভারতের পূর্বাঞ্চল এবং বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অতি ও ভারি বৃষ্টির কারণে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকার নদ-নদীতে পানিপ্রবাহ বেড়ে যায়। সেই পানিই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করে। তবে বৃষ্টিপাত

কমে যাওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয়া আছে। এ কারণে একদিকে তিস্তায় আরেকদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনায় পানিপ্রবাহ বেড়ে

যেতে পারে। এ ব্যাপারেও আমরা সতর্কতা জারি করেছি। এফএফডব্লিউসির বুধবারের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় মৌলভীবাজারে চলমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকবে। তবে

সিলেট জেলায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে। বুধবার পুরনো কুশিয়ারা মনু সুরমা, ও সুরমা, এসব নদীর মধ্যে অমলশীদ পয়েন্টে কুশিয়ারা বিপদসীমার সবচেয়ে ওপরে ১৭৪ সেন্টিমিটারে ছিল। মঙ্গলবার তা ১৪১

সেন্টিমিটারে এবং বুধবার তা ৯৯ সেন্টিমিটারে নেমে আসে। এভাবে অন্যান্য স্থানেও পানির স্তর নেমে আসে। বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি আরও বলেছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীগুলোর পানির সমতল

বাড়ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তা অব্যাহত থাকবে। আরো পড়ুন>> যে কূপে নামলেই হয়ে যাবেন পাথর! অষ্টাদশ শতকের রহস্যময় এই কূপ। যে কূপে পানির স্পর্শ লাগলেই হয়ে যায়

পাথর। এটি প্রকৃতির এক অজানা রহস্য। ইংল্যান্ডের নেয়ার্সবরো টাউনে আছে রহস্যময় একটি কুয়া। যার পানি সব কিছুকে পাথর করে দেয়। আশ্চর্য এ ক্ষমতার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই কুয়া। এর মধ্যে

গাছের পাতা, কাঠের টুকরো পড়ার কিছু পরেই জমে পাথর হয়ে যায়। এর থেকেই ছড়িয়েছে আতঙ্ক। ভয়ে অনেকেই কুয়ার ধারে যেতে চান না। যদি একবার কেউ পড়ে যায় তাহলে আর রক্ষা নেই। কৌতূহলী

অনেকে সাহস নিয়ে ভয়ঙ্কর এই কুয়োর ধারে যান। কোনোরকমে কুয়োর গা দিয়ে কিছু একটা ঝুলিয়ে দেন। পানির স্পর্শ লাগতেই ওই সব বস্তু পাথর হতে থাক। ধারণা করা হচ্ছে, জলের এমন কিছু রয়েছে

যার রাসায়নিক মাত্রা সবকিছু পাথরে পরিণত করে দেয়। কৌতূহল বসত কেউ কেউ উপর থেকে টুপি, জুতো রুমালসহ বিভিন্ন বস্তু কুয়ার পানিতে ফেলেছেন। কিছুক্ষণ পরেই সে সব পাথর হয়ে গেছে। কেউ

দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন টেডি বিয়ার, সাইকেল, কেটলি। দড়ির কিছু অংশসহ ঝুলন্ত বস্তুগুলি সম্পূর্ণ পাথরে পরিণত হয়েছে। কুয়ার ধারে এখনও ঝুলছে অষ্টাদশ শতকের টুপি, চেইন। ২০০/২৫০ ধরে একই রকম অবস্থা চলছে।

এবার আ.লীগের সাথে বিএনপিকেও ধুয়ে দিলেন মান্না

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধান দু’দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির আচরণ একই রকম। এরা ক্ষমতায় থাকাকালীন এক রকম, ক্ষমতায় বাইরে থাকলে আর এক রকম আচরণ করে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নির্বাচনের পরিবেশ নেই। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকার দ্বারা নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। আজ নিজ নির্বাচনী এলাকা […]

The post এবার আ.লীগের সাথে বিএনপিকেও ধুয়ে দিলেন মান্না appeared first on Diganta.

আমার সঙ্গে লাগতে চাইলে আয় দেখি কার কতো ক্ষমতা: এমপি পুত্র শাবাব

ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভারে গাড়ি চাপায় সেলিম বেপারী (৫২) নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ি গাড়িটির মালিক নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করীম চৌধুরীর স্ত্রী ও নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার চেয়ারম্যান কামরুন নাহার শিউলীর।

ঢাকা মেট্রো ১৩-৭৬৫৫ নম্বরের বেপরোয়া গতির ওই গাড়িটিই সেলিমকে চাপা দেয় নিশ্চিত করে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাড়ির ধাক্কায় সেলিম বেপারী রাস্তায় পড়ে গেলে তার গায়ের ওপর সামনের দুই চাকা ওঠে যায়, ওই অবস্থায় ব্যাক গিয়ারে গাড়ি ঘুরাতে গিয়ে সেলিমকে দ্বিতীয়বার রাস্তায় পিষে ফেলা হয়, এরপর গাড়িটি পালিয়ে যায়।

ওই সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন একরামুল কবির চৌধুরীর ছেলে শাবাব চৌধুরী, এ ব্যাপারে পুলিশ এখন অনেকটাই নিশ্চিত। পুলিশ জানায়, সেলিম বেপারীকে চাপা দিয়ে গাড়িটি পালিয়ে যাওয়ার সময় একজন মোটরসাইকেল চালক ও আরেকজন প্রাইভেট কার চালক সেটি অনুসরণ করে।

তারা কাফরুল থানার তদন্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনা ঘটিয়ে গাড়িটি দ্রুত সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনে ঢুকে পড়ে। ওই ভবনে ঢোকার পর একজন তরুণ গাড়িটি থেকে নামেন। ভবনটির আনসার ও প্রহরীরা জানিয়েছেন, ওই তরুণের নাম শাবাব চৌধুরী। তিনি কামরুন্নাহার শিউলি ও সংসদ সদস্য একরাম চৌধুরীর একমাত্র ছেলে।

এ ঘটনায় নিহতের জামাতা আরিফ ভূঁইয়া বাদি হয়ে কাফরুল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। তিনি জানান, তার শ্বশুর নিহত সেলিম ব্যাপারি প্রতিদিনের মতোই রাতে নিজের প্রতিষ্ঠানের গাড়ি জমা দিয়ে উত্তর খানের বাসায় ফিরতে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ওই সময়ই বেপরোয়া গতির একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয় এবং ঘটনাস্থলে তার শ্বশুর নিহত হয়।

কাফরুল থানা সূত্রে জানা গেছে, গাড়ি চাপায় সেলিম বেপারী নিহতের ঘটনায় তিনজন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা রেকর্ড করেছে পুলিশ। তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী বুধবার (২০ জুন) কাফরুল থানায় গিয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী ওই সময় গাড়ির আরোহী ছিলেন একজনই , তিনি এমপি পুত্র শাবাব চৌধুরী।

দূর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও গাড়িটির অনুসরণকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মোটরসাইকেল চালক জানান, ঘাতক গাড়িটি অনুসরণ করে ন্যাম ভবনে ঢোকার পর গাড়ি থেকে মারমুখি ভঙ্গিতে বেরিয়েে এসে এক তরুণ বলেন, এই তোরা এইখানে ক্যান আইছছ। এটা আমার এলাকা। আমার সঙ্গে লাগতে চাইলে আয়.দেখি কার কতো ক্ষমতা! এ সময় ওই তরুণের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়।

তখন আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং তরুণটিকে শাবাব নাম ধরে ডাকতে থাকে। এসময় এসব লোকজন ও দায়িত্বরত আনসার ও কেয়ারটেকাররা জানায়, শাবাব এমপি একরাম চৌধুরীর ছেলে। এরপর তাদের ন্যাম ভবন থেকে বের করে দেওয়া হয়।

ওই অনুসরণকারী আরো বলেন, আমরা ঘাতক গাড়ি ও এর চালকের ছবিও তোলেন এবং ভিডিও করেন। কিন্তু, তাকে হুমকি ধমকি দিয়ে সেসব ছবি ও ভিডিও ফোন থেকে মুছে ফেলতে বাধ্য করেন।তবে আমি নিশ্চিত যে, গাড়ি থেকে নেমে যিনি আমাদের ওপর তেড়ে আসেন তার নাম শাবাব। এ ঘটনার প্রমাণ ন্যাম ভবনের সিসি ক্যামেরায় নিশ্চয় ধারণ হয়েছে। ওই সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখলেই সব নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাফরুল থানার এক পুলিশ সদস্য বলেন, ঘটনার সময় সাবাব চৌধুরী একাই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তিনি মদ্যপান অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তার পরনে এক কালারের শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা ছিল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন চন্দ্র কর্মকার, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণসহ পুরো বিষয়টিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাশ শ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য একরাম চৌধুরীর স্ত্রী সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, এ দূর্ঘটনার সময় শাবাব বাসাতেই ছিল। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন নুরুল আলম নামে তাদের গাড়িচালক। উত্তরায় এক বান্ধবীর কাছে একটি পার্সেল পাঠিয়েছিলেন তিনি, সেটা নিয়ে যাচ্ছিলেন নুরুল আলম। তবে তাকে এখন খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। সংবাদ উৎস- পুর্ব পশ্চিম বিডি

গরমে ভাইরাস জ্বর মোকাবেলায় যা করবেন!

প্রকৃতি এখনও রূক্ষ। খানিক বিরতি দিয়ে বৃষ্টি হলেও গরম কমেনি। বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীসহ সারাদেশে তাপমাত্রা বেড়েছে। গ্রীষ্মের দাবদাহে অন্যান্য রোগের সঙ্গে শিশুরা ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত, ঋতু পরিবর্তনের সময় এ জ্বর হয়ে থাকে। আর্দ্র আবহাওয়ায় এর প্রকোপ বাড়ে।

সাধারণভাবে ভাইরাস জ্বর বলতে ফ্লুকেই বোঝায়। এর সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে ভাইরাস জ্বর, হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগ। এ জন্য প্রধানত দায়ী ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘টাইপ বি’ এবং ‘টাইপ এ’-এর দুটো ভাইরাস। রোজ হাজার-হাজার মানুষ গরমজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভিড় করছেন। আক্রান্তদের কাউকে হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে।

ভাইরাস জ্বর:

ভাইরাস জ্বর একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। ডেঙ্গু, জন্ডিসসহ নানা কারণে ভাইরাস জ্বর হতে পারে। ভাইরাসজড়িত কারণে মানুষ ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত। আবহাওয়া পরিবর্তন ও প্রচন্ড গরমে এর প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

ভাইরাস জ্বরের লক্ষণ:

ভাইরাস আক্রমণের দুই থেকে সাত দিন পর জ্বর হয়। শীত শীত ভাব, মাথাব্যথা, শরীর ও গিরায় ব্যথা, অরুচি, ক্লান্তি, দুর্বলতা, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, চুলকানি, কাশি, অস্থিরতা ও ঘুম কম হতে পারে। অনেকের পেটের সমস্যা, বমি ও ডায়রিয়া হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে ভাইরাসের সংক্রমণে পেটব্যথাও হতে পারে।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস অনবরত চরিত্র বদলায়, তাই উল্লিখিত লক্ষণগুলোর প্রতিটি সব রোগীর মধ্যে না-ও থাকতে পারে। আবার একেক রোগীর ক্ষেত্রে ভাইরাসটির তীব্রতাও একেক রকম হতে পারে। কারও হয়তো তিন দিনেই জ্বর ভালো হয়ে গেল, কারও আবার ৭ থেকে ১৪ দিনও লাগতে পারে। ভাইরাস জ্বর বাতাসের মাধ্যমে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি থেকে ছড়ায়। অনেকের ক্ষেত্রে ঠান্ডা লেগে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর হয়। তাই এ সময় সতর্ক থাকাই উচিত।

ভাইরাস জ্বর প্রতিকারে করণীয়:

ভাইরাস জ্বর সাধারণত তেমন কোনো ভয়াবহ রোগ নয়। ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হলে খুব বেশি চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কোনো অ্যান্টিবায়োটিকেরও প্রয়োজন হয় না। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল খেলেই হয়। তবে প্রচুর পানি পান করতে হবে এবং সেই সঙ্গে নিতে হবে বিশ্রাম। ভাইরাস জ্বর হলে খাবারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

অনেকে মনে করেন, ভাইরাস জ্বর হলে গোসল করা যাবে না। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। গোসল করতে বাধা নেই। খুব ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে শরীর মুছে দেওয়া ভালো। দরজা, জানালা ও ফ্যান বন্ধ করে ঘরকে গুমোট করে রাখবেন না। জানালা খুলে হালকা গতিতে ফ্যান ছেড়ে দেওয়া ভালো। সাধারণত কয়েক দিনেই ভাইরাস জ্বর ভালো হয়ে গেলেও এর ফলে শরীরে যে ক্লান্তি ও অবসাদ আসে, তা দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

খাবারের মধ্যে ভিটামিন সি ও জিঙ্কযুক্ত খাবার প্রাধান্য দিতে হবে। সাবধানে চলাফেলা করতে হবে। গরম এড়িয়ে চলতে হবে। পরিশ্রমের কারণে শরীরে ঘাম দেখা দিলে অবশ্যই পরিস্কার করতে হবে। যারা কর্মসংস্থানের কারণে অধিকাংশ সময় অফিসের বাহিরে থাকতে হয় তারা অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করবে।

পোষাক হতে হবে অবশ্যই আরামদায়ক ও ঢিলেঢলা। যাতে খুব সহজে শরীরের ঘাম বের হয়ে যায়। বিশেষ করে যারা শ্রমিক, বাচ্চা এবং বয়স্কদের বাড়তি সর্তক থাকতে হবে। এছাড়া রাস্তার খোলা খাবার পরিত্যাগ করে হবে সঙ্গে সঙ্গে সম্ভব হলে বাড়িতে তৈরি খাবার গ্রহণ করতে হবে। তবে যারা ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হবে তাদের অবশ্যই কিছুক্ষণ পর পর শরীর পাতলা গামছা বা কাপড় দিয়ে স্পঞ্জ করতে হবে ও মাথায় পানি দিতে হবে। শরীর গরম হলেই থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা মেপে ওষুধ খেতে হবে। জ্বর আক্রান্ত স্থায়িত্বকাল ৪-৫ দিন। তবে জ্বরের তীব্রতা বাড়লে অবশ্যই ডাক্তারের পরার্মশ নিতে হবে।

এছাড়া ভাইরাস জ্বর হলে রোগীকে তরল জাতীয় খাবার যেমন, স্যুপ, ফলের শরবত, স্যালাইন, লেবুর শরবত, ডাবের পানি খেতে হবে। পাশাপাশি প্রচুর পানি পান করতে হবে। খাবারের তালিকায় মৌসুমী ফলও খুবই উপকারী। যেমন- আনরস, আম কলা, খোসাযুক্ত ফলা খাদ্য তালিকায় রাখা ভাল। রোগীকে সব সময় মশারির নিচে রাখতে হবে। গলা ব্যথা থাকলে কুসুম গরম পানি খেতে হবে।

লেখক: ডা. আবু সাঈদ, শিশু বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ

‘ধাক্কা দেওয়ার পর ব্যাক গিয়ারে সেলিমকে গাড়িচাপা দেন এমপিপুত্র’(ভিডিও)

রাজধানীর বনানী ফ্লাইওভারে গাড়িচালক সেলিম ব্যাপারীকে প্রথমে দ্রুতগতিতে প্রাইভেটকার দিয়ে ধাক্কা দেয় নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল হক করিম চৌধুরীর ছেলে সাবাব চৌধুরী।

এরপর ব্যাক গিয়ার দিয়ে আবারও সেলিমকে গাড়িচাপা দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।বনানীতে এমপিপুত্রের গাড়ি চাপায় সেলিম ব্যাপারী নিহতের ঘটনায় তিনজন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা রেকর্ড করেছে কাফরুল থানা পুলিশ। তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী বুধবার (২০ জুন) কাফরুল থানায় গিয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে নিহত সেলিম ব্যাপারীর জামাই আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে সাবাব চৌধুরী গাড়ি চালাচ্ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে তার শ্বশুর প্রাইভেটকার চালক সেলিম ব্যাপারী ডিউটি শেষ করে বনানী সেতু ভবন সংলগ্ন ফ্লাইওভার পার হচ্ছিলেন।

এ সময় সেলিম ব্যাপারীর দুই পায়ের ওপর গাড়ি তুলে দেন সাবাব চৌধুরী। এ সময় চাপা খেয়ে গাড়ির বাম্পার চেপে ধরেন সেলিম ব্যাপারী। তখন গাড়ি ব্যাক গিয়ারে দিয়ে আবারও সেলিমকে চাপা দেওয়া হয়।

সাবাব চৌধুরী গাড়ি ব্যাক গিয়ারে নিলে সেলিম ব্যাপারী ফ্লাইওভারের গার্ডারে ধাক্কা খান। সেখানে তার মগজ বের হয়ে যায়। এরপর গাড়িটি টান দিয়ে পালিয়ে যান এমপিপুত্র সাবাব চৌধুরী।

কাফরুল থানার এসআই সুজন কর্মকার বলেন, ‘মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে সেলিম ব্যাপারীকে একটি গাড়ি চাপা দেয়। ঘটনাস্থলে ওই গাড়ির নম্বর প্লেট পাওয়া গেছে। ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-৭৬৫৫ দিয়ে বিআরটিতে আবেদন করা হয়েছে। আশা করি, বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।’

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার পর লাশ উদ্ধার করে প্রথমে থানায় এরপর ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে নেওয়া হয়। সেলিম ব্যাপারীর মেয়ে জামাই আরিফুল ইসলাম রাতেই বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।

মামলা নম্বর-১৮, ২০/০৬/২০১৮ইং। মামলার তদন্ত চলছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য বলেন, ঘটনার সময় সাবাব চৌধুরী একাই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তিনি মদ্যপান অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তার পরনে এক কালারের শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা ছিল।

সেলিম ব্যাপারীর মেয়ে সাদিয়া আক্তার তামান্না বলেন, ‘রাত সাড়ে ৯টার দিকে সবশেষ বাবার সঙ্গে কথা হয়। মেয়ের বাসায় রাতে দাওয়াত খেতে যাওয়ার কথা ছিল। বাবা বলেন, ডিউটি শেষ করে গাড়ি জমা দিয়েছি। গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছি, তোমার বাসায় যাব।

এরপর মাকেও ফোন করে জানিয়েছে, তোমরা ঘুমিয়ে পড়। আমি তামান্নার বাসায় যাব। এর কিছুক্ষণ পর রাত ১০টার দিকে আমার শ্বশুরের ফোনে কল করে কে যেন জানিয়েছে, বাবা অ্যাকসিডেন্ট করেছে, যেতে হবে।

মেয়ে তামান্না বলেন, ‘আমার বাবা নাওয়ার প্রপার্টিস নামে একটি ডেভেলপার কোম্পানিতে এমডির গাড়ি চালক ছিলেন। ওই এমডি রাজধানীর নাখালপাড়ায় থাকেন।’ তিনি জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালে।

ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বরিশালে নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জানতে একরামুল করিম চৌধুরীর সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিক ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। সংবাদ উৎস- আমাদের সময়, সময় সংবাদ।

কম ঘুমালে ওজন বাড়ে!

সুস্বাস্থ্যের জন্য ঘুম খুব জরুরি। যাদের ঠিকঠাক মতো ঘুমের অভ্যাস রয়েছে তারা একরাত জেগেই দেখুন পরের দিন কাজকর্ম করতে কতটা বেগ পেতে হয়। এখনকার ব্যস্ত জীবনের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে অনেকেই আছেন যারা ঠিকমত ঘুমানোর সময় পান না। আবার অনেকেই আছেন যারা বিছানায় শুয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেসবুক বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতে কাটিয়ে দেন। এই সব কিছুতে ঘুম যেন জীবন থেকে প্রায় বিদায় নিতে বসেছে।

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন কোনো পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তি যদি অন্তত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টার কম ঘুমান তবে তার শরীরে নানা রকম রোগে বাসা বাঁধতে পারে। আর সেই রোগ থেকে হয় বিষণ্ণতা। আর এই বিষণ্ণতাই এক সময় পরিমাণের চেয়ে বেশি খাওয়া দাওয়া করার দিকে ঠেলে নিয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা আরো বলেছেন, বিষণ্ণতায় মানুষ সাধারণত চকোলেট, চিপস বা অন্যান্য ফাস্টফুড জাতীয় খাবার বেশি খেতে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে শরীরের ওজন বৃদ্ধি হতে থাকে। তাই এই সকল জটিলতা এড়াতে সময়মত পরিমিত পরিমাণে ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে।

কম ঘুমানো এবং দীর্ঘ মেয়াদি ঘুম না হওয়া বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। যেমন- হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর, অনিয়মিত হার্টবিট, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ইত্যাদি বাড়ায়। গবেষণায় বলা হয়, যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে তাদের বেশির ভাগই এসব রোগে ভোগে।

আমাদের দেহের হরমোন লেপটিন জানান দেয় পেট ভরা আছে কি না- এই কথা। কম ঘুমালে এই হরমোনের মাত্রা কমে যায়। এতে ক্ষুধা লাগে। এটি খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এটি ওজন বাড়ার অন্যতম কারণ।